বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের জন্য ধাপে ধাপে পূর্ণাঙ্গ বাজার প্রবেশ নির্দেশিকা

মো. জয়নাল আবদিন
ব্যবসা পরামর্শক | উদ্যোক্তা | আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ
প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ (টিঅ্যান্ডআইবি)
মহাসচিব, ব্রাজিল বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিবিসিসিআই)

ব্রাজিল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ভোক্তা বাজার এবং লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে বড় অর্থনীতি। যেসব বাংলাদেশি রপ্তানিকারক ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডার মতো প্রচলিত বাজারের বাইরে নতুন ভৌগোলিক বাজারে প্রবেশ ও রপ্তানি বহুমুখীকরণ করতে চান, তাদের জন্য ব্রাজিল একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনাময় বাজার। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, নিটওয়্যার, হোম টেক্সটাইল, পাট ও বহুমুখী পাটপণ্য, চামড়া ও জুতা, ওষুধ, সিরামিক, কৃষিপ্রক্রিয়াজাত খাদ্য, হিমায়িত খাদ্য, হস্তশিল্প, প্লাস্টিক, হালকা প্রকৌশল পণ্য এবং অন্যান্য বিভিন্ন উৎপাদিত পণ্যে উল্লেখযোগ্য প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা রয়েছে। এসব পণ্যের অনেকগুলোরই ব্রাজিলের বাজারে প্রবেশের বাস্তব সুযোগ রয়েছে।

তবে শুধুমাত্র একটি রপ্তানিযোগ্য পণ্য থাকা যথেষ্ট নয়। একজন রপ্তানিকারকের সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো হলো: ব্রাজিলে আমার পণ্য কে আমদানি করবে? কে তা বিতরণ করবে? প্রকৃত ক্রেতা কোথায় পাব? তাদের কাছে কীভাবে পৌঁছাব? কীভাবে যাচাই করব? এবং কীভাবে একটি প্রাথমিক যোগাযোগকে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই বাজার প্রবেশে রূপান্তর করব?

ব্রাজিলের বাজারে সফলভাবে প্রবেশ করার জন্য শুধু শত শত ই-মেইল ঠিকানা সংগ্রহ করে সাধারণ ধরনের কোটেশন পাঠানো যথেষ্ট নয়। ব্রাজিল একটি উন্নত, নিয়ন্ত্রিত এবং অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক বাজার। সফল রপ্তানিকারকেরা সাধারণত বাজার গবেষণা, পণ্য উপযোগীকরণ, আমদানিকারক শনাক্তকরণ, পেশাদার যোগাযোগ, বিধিবিধান প্রস্তুতি, বাণিজ্যিক যাচাই, সরাসরি সম্পর্ক গঠন এবং নিয়মিত অনুসরণ এই সবকিছুর সমন্বিত ব্যবহার করেন।

এই নির্দেশিকায় পুরো প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

১. ক্রেতা খোঁজার আগে ব্রাজিলের বাজারকে বুঝুন

বাজার সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা ছাড়া কখনোই ক্রেতা খোঁজা শুরু করবেন না। একজন বাংলাদেশি রপ্তানিকারকের প্রথম কাজ হওয়া উচিত তার পণ্যের জন্য ব্রাজিলে পর্যাপ্ত চাহিদা আছে কি না, বর্তমানে কোন কোন দেশ সেই পণ্য সরবরাহ করছে, বাজারে দামের অবস্থান কেমন, প্রধান ক্রেতারা কোথায় অবস্থান করছে এবং পণ্য কোন ধরনের সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে বাজারে পৌঁছায় এসব বিষয় বোঝা।

ব্রাজিলকে একটি একক ও অভিন্ন বাজার হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। দেশটি ভৌগোলিকভাবে বিশাল এবং বিভিন্ন রাজ্য ও মহানগরীতে বাণিজ্যিক কার্যক্রমের ঘনত্ব ভিন্ন। সাও পাওলো বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়িক ও শিল্পকেন্দ্র এবং এখানে বিপুলসংখ্যক আমদানিকারক, পাইকার, খুচরা বিক্রেতা, উৎপাদক এবং পরিবেশক প্রতিষ্ঠান অবস্থিত। তবে পণ্যের ধরন অনুযায়ী রিও ডি জেনেইরো, মিনাস জেরাইস, পারানা, সান্তা কাতারিনা, রিও গ্রান্দে দো সুল, বাহিয়া, পারনামবুকো এবং অন্যান্য অঞ্চলও বিশ্লেষণ করা উচিত।

প্রাথমিক গবেষণায় নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজুন:

  • ব্রাজিল কি ইতোমধ্যে আমার পণ্য আমদানি করছে?
  • কোন কোন দেশ বর্তমানে এই পণ্যের প্রধান সরবরাহকারী?
  • আমদানি চাহিদা বাড়ছে নাকি কমছে?
  • সংশ্লিষ্ট এইচএস/এনসিএম কোড কী?
  • কী ধরনের আমদানি শুল্ক ও অন্যান্য কর প্রযোজ্য হতে পারে?
  • আমদানি লাইসেন্স কি প্রয়োজন?
  • কোনো কারিগরি, স্বাস্থ্য, স্যানিটারি বা লেবেলিং শর্ত আছে কি?
  • সাধারণত কারা পণ্যটি কেনে—আমদানিকারক, উৎপাদক, পাইকার, পরিবেশক, খুচরা বিক্রেতা নাকি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান?
  • প্রচলিত অর্ডার পরিমাণ কত?
  • কী ধরনের গুণমান, সার্টিফিকেশন, প্যাকেজিং এবং স্পেসিফিকেশন বাজারে প্রত্যাশিত?

ব্রাজিলের সরকারি কমেক্স স্ট্যাট প্ল্যাটফর্ম এই পর্যায়ে অত্যন্ত কার্যকর। ব্রাজিলের উন্নয়ন, শিল্প, বাণিজ্য ও সেবা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কমেক্স স্ট্যাট ১৯৯৭ সাল থেকে বিস্তারিত বৈদেশিক বাণিজ্য পরিসংখ্যান সরবরাহ করে এবং দেশ, এনসিএম/এইচএস শ্রেণিবিন্যাস, রাজ্য, পৌরসভা এবং অন্যান্য বিভিন্ন মানদণ্ডে অনুসন্ধানের সুযোগ দেয়। এটি ব্যবহারের জন্য লগইনও প্রয়োজন হয় না।

এর ফলে একজন রপ্তানিকারক ব্রাজিল বাংলাদেশ, চীন, ভারত, ভিয়েতনাম, তুরস্ক বা অন্য কোনো দেশ থেকে সংশ্লিষ্ট পণ্য কতটা আমদানি করছে তা বিশ্লেষণ করতে পারেন।

মূলনীতি হলো: প্রথমে বাজার খুঁজুন। তারপর ক্রেতা খুঁজুন।

২. আপনার পণ্যের সঠিক এনসিএম কোড নির্ধারণ করুন

আন্তর্জাতিক রপ্তানিকারকেরা সাধারণত হারমোনাইজড সিস্টেম বা এইচএস কোড ব্যবহার করেন। ব্রাজিলে ব্যবহৃত হয় এনসিএম (নোমেনক্লাতুরা কোমুম দো মেরকোসুল), যা হারমোনাইজড সিস্টেমের ভিত্তিতে তৈরি। সঠিক পণ্য শ্রেণিবিন্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এনসিএম কোডের উপর নির্ভর করতে পারে:

  • শুল্ক;
  • কর;
  • প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ;
  • আমদানি লাইসেন্স;
  • কারিগরি বিধি;
  • স্বাস্থ্য ও স্যানিটারি শর্ত;
  • লেবেলিং;
  • প্রয়োজনীয় আমদানি নথিপত্র।

অতএব, ব্রাজিলিয়ান আমদানিকারকের কাছে যাওয়ার আগে সম্ভাব্য এনসিএম কোড নির্ধারণ করুন এবং সম্ভাব্য আমদানিকারক অথবা ব্রাজিলের কাস্টমস বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে তা নিশ্চিত করুন। সঠিক এনসিএম নির্ধারণের আরেকটি সুবিধা হলো এর মাধ্যমে ব্রাজিলের আমদানি তথ্য আরও নির্ভুলভাবে বিশ্লেষণ করা যায়।

৩. পণ্যটির জন্য বিশেষ আমদানি অনুমোদন প্রয়োজন কি না তা নির্ধারণ করুন

সব পণ্যের জন্য একই ধরনের নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা প্রযোজ্য নয়। একজন তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক, ওষুধ প্রস্তুতকারক, খাদ্য উৎপাদক এবং যন্ত্রপাতি রপ্তানিকারকের ব্রাজিল বাজারে প্রবেশের প্রক্রিয়া এক হবে না। ব্রাজিলের রেসেইতা ফেডারেল আমদানির আগে আমদানিকারকদের যাচাই করতে বলে যে সংশ্লিষ্ট পণ্য বা লেনদেনটি কোনো বিধিনিষেধ, প্রশাসনিক প্রয়োজনীয়তা বা আমদানি লাইসেন্সের আওতায় পড়ে কি না। এসব বিষয় সিসকমেক্স ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে এলপিসিও (লাইসেন্স, অনুমতি, সনদ বা অন্যান্য নথি) প্রয়োজন হতে পারে। এসব আবেদন পোর্টাল উনিকো সিসকমেক্সের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। কিছু নির্দিষ্ট পণ্যের ক্ষেত্রে নিচের মতো নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে:

আনভিসা – ওষুধ, চিকিৎসা পণ্য, কসমেটিকস, স্বাস্থ্যসম্পর্কিত পণ্য এবং নির্দিষ্ট খাদ্যপণ্য।

মাপা — কৃষি ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় – কৃষিপণ্য, প্রাণিজ পণ্য, উদ্ভিজ্জ পণ্য এবং বিভিন্ন নিয়ন্ত্রিত খাদ্য ও কৃষি উপকরণ।

মাপার তথ্য অনুযায়ী, নিয়ন্ত্রিত কৃষিপণ্য আমদানির ক্ষেত্রে প্রাণিস্বাস্থ্য, উদ্ভিদস্বাস্থ্য, পণ্যের পরিচিতি, গুণমান এবং অন্যান্য সরকারি নিয়ন্ত্রণের বিষয় থাকতে পারে। সুতরাং, ক্রেতার কাছে ডেলিভারি সময় নিশ্চিত করার আগে পণ্যটি ব্রাজিলে আমদানির ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রকভাবে বাস্তবসম্মত কি না তা যাচাই করা উচিত।

৪. আপনার কী ধরনের ব্রাজিলিয়ান অংশীদার প্রয়োজন তা ঠিক করুন

রপ্তানিকারকদের একটি বড় ভুল হলো শুধু “ব্রাজিলে ক্রেতা” খোঁজা। একজন ক্রেতা বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। আপনার পণ্য ও বাজার প্রবেশ কৌশলের উপর নির্ভর করে আপনি নিচের যেকোনো ধরনের অংশীদার খুঁজতে পারেন:

আমদানিকারক: ব্রাজিলে পণ্য আমদানি এবং কাস্টমস কার্যক্রম সম্পন্ন করতে সক্ষম প্রতিষ্ঠান।

পরিবেশক: পণ্য কিনে পাইকার, খুচরা বিক্রেতা, প্রতিষ্ঠান বা আঞ্চলিক ডিলারদের কাছে বিতরণ করে।

আমদানিকারক-পরিবেশক: অনেক ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো অংশীদার, কারণ একই প্রতিষ্ঠান পণ্য আমদানি এবং বাজারজাত—উভয় কাজ করে।

পাইকার: বড় পরিমাণে পণ্য কিনে ছোট খুচরা বিক্রেতা বা দোকানে সরবরাহ করে।

খুচরা বিক্রয় চেইন: বড় সুপারমার্কেট, ফ্যাশন চেইন, ফার্মেসি চেইন, ডিপার্টমেন্ট স্টোর বা বিশেষায়িত রিটেইলার সরাসরি বা অনুমোদিত আমদানিকারকের মাধ্যমে পণ্য কিনতে পারে।

উৎপাদক: ব্রাজিলিয়ান কারখানা কাঁচামাল, টেক্সটাইল, রাসায়নিক উপকরণ, যন্ত্রাংশ, প্যাকেজিং, যন্ত্রপাতি বা অন্যান্য মধ্যবর্তী পণ্য আমদানি করতে পারে।

প্রাইভেট লেবেল ক্রেতা: এমন প্রতিষ্ঠান যারা নিজেদের ব্র্যান্ডে পণ্য উৎপাদন করিয়ে আমদানি করে।

বাণিজ্যিক প্রতিনিধি বা বিক্রয় এজেন্ট: নিজে আমদানিকারক না হলেও ক্রেতা ও বাজার উন্নয়নে কাজ করে।

সঠিক চ্যানেল নির্বাচন করলে সফলতার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়। উদাহরণস্বরূপ, একটি বাংলাদেশি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের এমন আমদানিকারক-পরিবেশক দরকার হতে পারে যার সুপারমার্কেট নেটওয়ার্কে প্রবেশাধিকার রয়েছে। অন্যদিকে একটি টেক্সটাইল ফ্যাব্রিক কোম্পানির লক্ষ্য হতে পারে পোশাক উৎপাদনকারী বা শিল্প আমদানিকারক।

৫. আদর্শ ব্রাজিলিয়ান ক্রেতার প্রোফাইল তৈরি করুন

যে কোম্পানি সামনে পাচ্ছেন, তাকেই যোগাযোগ করা উচিত নয়। লিড তৈরি করার আগেই আপনার আদর্শ ক্রেতা প্রোফাইল নির্ধারণ করুন। ধরা যাক, আপনি প্যাকেটজাত খাদ্য রপ্তানি করেন। আপনার কাঙ্ক্ষিত অংশীদার হতে পারে:

সাও পাওলোতে অবস্থিত একটি প্রতিষ্ঠিত আমদানিকারক-পরিবেশক, যা আন্তর্জাতিক খাদ্যপণ্য আমদানি করে, সুপারমার্কেট চেইনে সরবরাহ করে, একাধিক রাজ্যে বিতরণ সক্ষমতা রাখে, নিজস্ব গুদাম রয়েছে এবং আমদানিকৃত ব্র্যান্ড পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে।

অন্যদিকে জুতার ক্ষেত্রে লক্ষ্য হতে পারে: জুতা আমদানিকারক, পরিবেশক, খুচরা চেইন, ফ্যাশন পাইকার অথবা এশীয় দেশ থেকে প্রাইভেট লেবেল পণ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠান। আপনার নির্বাচনী মানদণ্ডের মধ্যে থাকতে পারে:

  • শিল্পখাত;
  • পণ্যের বিশেষায়ন;
  • প্রতিষ্ঠানের আকার;
  • ভৌগোলিক কাভারেজ;
  • বিতরণ নেটওয়ার্ক;
  • বিদ্যমান আমদানিকৃত ব্র্যান্ড;
  • আমদানির অভিজ্ঞতা;
  • গ্রাহকের ধরন;
  • গুদাম সুবিধা;
  • বার্ষিক ক্রয়ক্ষমতা;
  • আন্তর্জাতিক সোর্সিং অভিজ্ঞতা;
  • নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণের সক্ষমতা;
  • আর্থিক বিশ্বাসযোগ্যতা।

এভাবে “ক্রেতা খোঁজা” একটি এলোমেলো প্রক্রিয়া না হয়ে কাঠামোবদ্ধ বিজনেস-টু-বিজনেস ম্যাচমেকিং কার্যক্রমে রূপ নেয়।

ব্রাজিলে আমদানিকারক ও পরিবেশক কীভাবে খুঁজে পাবেন?

৬. ব্রাজিলিয়ান আমদানি তথ্য ব্যবহার করে সম্ভাবনার অঞ্চল নির্ধারণ করুন

বাণিজ্য পরিসংখ্যান সবসময় সরাসরি প্রতিটি আমদানিকারকের পূর্ণ নাম ও যোগাযোগের তথ্য দেয় না, তবে কোথায় খুঁজবেন সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেয়। কমেক্স স্ট্যাটে আপনার পণ্যের এনসিএম কোড ব্যবহার করে বিশ্লেষণ করুন:

১. ব্রাজিলের মোট আমদানি।

২. গত পাঁচ বছরের আমদানি প্রবণতা।

৩. প্রধান সরবরাহকারী দেশ।

৪. গড় আমদানি মূল্য।

৫. কোন কোন ব্রাজিলিয়ান রাজ্যে পণ্যটির আমদানি বেশি।

৬. প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রবেশ বন্দর ও কাস্টমস অঞ্চল।

৭. বাংলাদেশ ইতোমধ্যে কতটা অংশগ্রহণ করছে।

ধরা যাক, আপনার পণ্যের বেশিরভাগ আমদানি সাও পাওলো, পারানা এবং সান্তা কাতারিনা রাজ্যে হচ্ছে। তাহলে পুরো ব্রাজিলজুড়ে এলোমেলোভাবে কোম্পানি খোঁজার পরিবর্তে এসব রাজ্যের প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দিন। এই একটি পদ্ধতিই কয়েক সপ্তাহের অকার্যকর লিড জেনারেশন কমিয়ে দিতে পারে।

৭. ব্রাজিলের ব্যবসায়িক সমিতি ও বিতরণ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করুন

খাতভিত্তিক বাণিজ্য সংগঠন ও ব্যবসায়িক সমিতি সম্ভাব্য আমদানিকারক ও পরিবেশক শনাক্ত করার অন্যতম ভালো উৎস।

ভোক্তাপণ্যের ক্ষেত্রে, উদাহরণস্বরূপ, ব্রাজিলিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব হোলসেলার্স অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউটরস (এবিএডি) দেশটির পাইকারি ও বিতরণ খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন। তাদের নেটওয়ার্কে বহু পাইকার, পরিবেশক এবং রাজ্যভিত্তিক অংশীদার রয়েছে। একইভাবে রপ্তানিকারকদের নিচের খাতগুলোর সংশ্লিষ্ট সংগঠন চিহ্নিত করা উচিত:

  • সুপারমার্কেট ও খুচরা বিক্রয়;
  • টেক্সটাইল ও পোশাক;
  • জুতা;
  • ওষুধ;
  • হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা;
  • খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ;
  • প্যাকেজিং;
  • কৃষি;
  • যন্ত্রপাতি;
  • রাসায়নিক;
  • প্লাস্টিক;
  • নির্মাণসামগ্রী;
  • চামড়া;
  • ই-কমার্স।

এসব সংগঠনের সদস্য তালিকা, ডিরেক্টরি, অনুষ্ঠানের স্পনসর, বক্তা, প্রদর্শক এবং অংশগ্রহণকারীরা সম্ভাব্য লিডের উৎস হতে পারে। শুধু সংগঠনের সাধারণ ই-মেইল ঠিকানা সংগ্রহ করবেন না। তাদের সদস্য কোম্পানি শনাক্ত করুন এবং এরপর সংশ্লিষ্ট কোম্পানির প্রকৃত সিদ্ধান্তগ্রহণকারীদের খুঁজুন।

৮. ব্রাজিলে যাওয়ার আগেই ট্রেড ফেয়ারকে ক্রেতা ডাটাবেস হিসেবে ব্যবহার করুন

ব্রাজিলে অসংখ্য খাতভিত্তিক বাণিজ্য মেলা ও প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। শুধু প্রদর্শক হিসেবে অংশগ্রহণের জন্য নয়, ক্রেতা অনুসন্ধান এবং বাজার গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের জন্যও ট্রেড ফেয়ার অত্যন্ত কার্যকর।

বিশ্লেষণ করুন:

  • প্রদর্শক তালিকা;
  • স্পনসর তালিকা;
  • সহযোগী সংগঠন;
  • বক্তা;
  • নিবন্ধিত ব্র্যান্ড;
  • পূর্ববর্তী অংশগ্রহণকারী;
  • আমন্ত্রিত ক্রেতা;
  • ইভেন্ট ডিরেক্টরি।

খাদ্য ও সুপারমার্কেট খাতের ক্ষেত্রে এপাস শো সাও পাওলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। এই মেলায় খাদ্য, পানীয়, কৃষি ব্যবসা, গৃহস্থালি পণ্য এবং সুপারমার্কেট খাতের ব্রাজিলিয়ান ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে।

জুতা খাতে বিএফশো-এর মতো অনুষ্ঠান খুচরা বিক্রেতা, পরিবেশক, আমদানিকারক, প্রতিনিধি এবং ফুটওয়্যার কোম্পানিগুলোকে একত্র করে। একই কৌশল প্রায় সব শিল্পখাতেই প্রয়োগ করা যায়।

ব্যবহারিক কৌশল

ব্রাজিল সফরের তিন মাস আগে সংশ্লিষ্ট প্রদর্শনী ও বাণিজ্য মেলার প্রদর্শক এবং অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের তথ্য সংগ্রহ করুন। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান আলাদাভাবে গবেষণা করুন। নির্বাচিত সম্ভাব্য ক্রেতার সঙ্গে আগাম যোগাযোগ করুন এবং সভা নির্ধারণ করুন। তাহলে আপনার সফর এলোমেলো বাজার ঘোরার পরিবর্তে একটি পরিকল্পিত বিটুবি ব্যবসায়িক মিশনে রূপ নেবে।

৯. লিংকডইন পেশাদারভাবে ব্যবহার করুন

সঠিকভাবে ব্যবহার করলে লিংকডইন ব্রাজিলের বাজারে প্রবেশের জন্য অত্যন্ত কার্যকর। নিচের মতো অনুসন্ধান করতে পারেন:

Import Manager Brazil + Product

Procurement Manager Brazil + Industry

International Purchasing Manager São Paulo

Diretor de Importação

Gerente de Compras

Gerente de Importação

Distribuidor + পর্তুগিজ ভাষায় পণ্যের নাম

Atacadista + Product

Comprador Internacional

শুধু ইংরেজি শব্দের উপর নির্ভর করবেন না। পর্তুগিজ ভাষার কীওয়ার্ড ব্যবহার করলে অনেক বেশি ফল পাওয়া যায়।

একটি কোম্পানি শনাক্ত করার পর তাদের মধ্যে নিচের মতো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের খুঁজুন:

  • মালিক;
  • প্রধান নির্বাহী;
  • ক্রয় পরিচালক;
  • ক্রয় ব্যবস্থাপক;
  • আমদানি ব্যবস্থাপক;
  • বাণিজ্যিক পরিচালক;
  • আন্তর্জাতিক ব্যবসা ব্যবস্থাপক;
  • ক্যাটাগরি ব্যবস্থাপক;
  • সোর্সিং ব্যবস্থাপক।

পেশাদারভাবে সংযুক্ত হন। প্রথম যোগাযোগেই পুরো ক্যাটালগ পাঠিয়ে দেবেন না। প্রথমে সংক্ষিপ্তভাবে কোম্পানির পরিচিতি, পণ্য, প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা এবং ব্রাজিলিয়ান প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতার সম্ভাব্য কারণ তুলে ধরুন।

১০. শুধু ইংরেজিতে নয়, পর্তুগিজ ভাষায়ও অনুসন্ধান করুন

বিদেশি রপ্তানিকারকেরা প্রায়ই গুগলে সার্চ করেন: “Brazil footwear importer”

একজন দক্ষ রপ্তানিকারক আরও অনুসন্ধান করবেন: “importador de calçados Brasil”

“distribuidor de calçados São Paulo”

“atacadista de alimentos Brasil”

“importadora de alimentos São Paulo”

“distribuidor de produtos farmacêuticos Brasil”

“importador de roupas”

“distribuidor de produtos têxteis”

স্থানীয় ভাষায় অনুসন্ধান করলে এমন বহু কোম্পানি পাওয়া যায় যারা ইংরেজিভাষী অনুসন্ধানে সামনে আসে না। ব্যবসা এগিয়ে গেলে আপনার ওয়েবসাইট, পণ্য ক্যাটালগ এবং পরিচিতিমূলক নথির পর্তুগিজ সংস্করণ তৈরি করা উত্তম। অনেক আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিভাগে ইংরেজিতে কাজ করা সম্ভব হলেও পর্তুগিজ ভাষায় উপস্থাপনা ব্রাজিলের বাজারের প্রতি আপনার দীর্ঘমেয়াদি আগ্রহ ও প্রতিশ্রুতি প্রদর্শন করে।

export consulting

১১. সম্ভাব্য কোম্পানিটি সত্যিই আমদানি করতে সক্ষম কি না যাচাই করুন

কেউ যদি বলে, “আমরা আগ্রহী,” তাতেই সে যোগ্য আমদানিকারক হয়ে যায় না। ব্রাজিলে আমদানি কার্যক্রম সিসকমেক্স ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। রেসেইতা ফেডারেল আমদানিকারক ও বৈদেশিক বাণিজ্যে যুক্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য বিভিন্ন নিবন্ধন ও সক্ষমতার পদ্ধতি পরিচালনা করে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ৩১ আগস্ট ২০২৬ থেকে বিদেশি বাণিজ্যে কাজ করার অনুমোদনপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের পাবলিক যাচাই পোর্টাল উনিকো সিসকমেক্সের মাধ্যমে করা যায়। সুতরাং গুরুতর আলোচনায় যাওয়ার আগে নিম্নলিখিত তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করা উচিত:

  • পূর্ণ আইনগত কোম্পানি নাম;
  • সিএনপিজে;
  • নিবন্ধিত ঠিকানা;
  • ওয়েবসাইট;
  • কর্পোরেট ই-মেইল;
  • কোম্পানির পরিচালক;
  • আমদানি সক্ষমতা;
  • বর্তমানে কোন পণ্য নিয়ে কাজ করে;
  • ব্যবসায়িক রেফারেন্স;
  • বিতরণ এলাকা;
  • উপযুক্ত পর্যায়ে ব্যাংকিং তথ্য;
  • প্রয়োজনে গ্রাহক ও সরবরাহকারীর রেফারেন্স।

কোনো প্রতিষ্ঠান বৈদেশিক বাণিজ্য কার্যক্রমের জন্য অনুমোদিত হলেই তা যে আর্থিকভাবে শক্তিশালী বা বাণিজ্যিকভাবে উপযুক্ত এমন নয়। এটি শুধু বাণিজ্যিক যাচাইয়ের একটি অংশ।

১২. ব্রাজিলের জন্য আলাদা রপ্তানি প্রস্তাব তৈরি করুন

একটি সাধারণ কোম্পানি প্রোফাইল সব দেশের সম্ভাব্য ক্রেতাকে পাঠিয়ে ফল আশা করা উচিত নয়। ব্রাজিলের জন্য সংক্ষিপ্ত ও বাজারভিত্তিক একটি বাণিজ্যিক প্যাকেজ তৈরি করুন।

কোম্পানি পরিচিতি

আপনার উৎপাদন সক্ষমতা, অভিজ্ঞতা, উৎপাদন ক্ষমতা এবং রপ্তানির ইতিহাস তুলে ধরুন।

পণ্য ক্যাটালগ

পেশাদার ছবি, কারিগরি স্পেসিফিকেশন, উপাদান, আকার, প্যাকেজিং ও বিকল্পগুলো উল্লেখ করুন।

সনদ ও সার্টিফিকেশন

কারখানা, গুণমান, সামাজিক কমপ্লায়েন্স, পরিবেশ, খাদ্যনিরাপত্তা অথবা সংশ্লিষ্ট শিল্প সার্টিফিকেশন অন্তর্ভুক্ত করুন।

রপ্তানি মূল্য

পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করুন মূল্যটি এফওবি, সিএফআর, সিআইএফ নাকি অন্য কোনো ইনকোটার্মের ভিত্তিতে।

ন্যূনতম অর্ডার পরিমাণ

আপনার ন্যূনতম অর্ডার ব্রাজিলিয়ান ক্রেতার বাস্তব বাজারচাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত।

উৎপাদন সময়

স্যাম্পল, উৎপাদন ও শিপমেন্টের সম্ভাব্য সময় উল্লেখ করুন।

প্রাইভেট লেবেল সক্ষমতা

ব্রাজিলিয়ান রিটেইলার এবং পরিবেশকদের কাছে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

প্যাকেজিং কাস্টমাইজেশন

পর্তুগিজ ভাষার লেবেল বা বাজারভিত্তিক প্যাকেজিং করা সম্ভব কি না ব্যাখ্যা করুন।

নমুনা

গুরুতর এবং যাচাইকৃত সম্ভাব্য ক্রেতাকে স্যাম্পল দেওয়ার প্রস্তুতি রাখুন।

একজন ব্রাজিলিয়ান আমদানিকারক শুধু জানতে চান না আপনি কী উৎপাদন করেন। তারা জানতে চান: আপনার পণ্য আমদানি করলে তাদের ব্যবসায় কীভাবে লাভ হবে?

১৩. আলোচনার আগে ব্রাজিলে পণ্যের চূড়ান্ত খরচ হিসাব করুন

রপ্তানিতে একটি সাধারণ সমস্যা হলো, কারখানায় এফওবি মূল্য প্রতিযোগিতামূলক হলেও ব্রাজিলে পৌঁছানোর পর পণ্যের মোট মূল্য অনেক বেশি হয়ে যায়। পণ্য, শ্রেণিবিন্যাস, রাজ্য এবং লেনদেন কাঠামোর উপর নির্ভর করে ব্রাজিলে আমদানি খরচের মধ্যে থাকতে পারে:

  • আমদানি শুল্ক;
  • ফেডারেল কর;
  • রাজ্যভিত্তিক কর;
  • বন্দর খরচ;
  • কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স;
  • ফ্রেইট;
  • বীমা;
  • অভ্যন্তরীণ পরিবহন;
  • অন্যান্য লজিস্টিক ব্যয়।

সুতরাং ব্রাজিলিয়ান আমদানিকারক অথবা দক্ষ কাস্টমস ও কর বিশেষজ্ঞের সঙ্গে মিলে সম্ভাব্য ল্যান্ডেড কস্ট হিসাব করুন। এরপর বাজারে থাকা প্রতিযোগী পণ্যের সঙ্গে তুলনা করুন। আপনার মূল প্রশ্ন হওয়া উচিত: আমদানি ব্যয় এবং পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতার মার্জিন যোগ করার পরও কি পণ্যটি প্রতিযোগিতামূলক থাকবে?

যদি না থাকে, তাহলে আপনাকে পরিবর্তন করতে হতে পারে:

  • পণ্যের স্পেসিফিকেশন;
  • প্যাকেজিং;
  • শিপমেন্টের পরিমাণ;
  • ন্যূনতম অর্ডার;
  • মূল্য;
  • লজিস্টিক;
  • বাজার অবস্থান।

১৪. প্রথম যোগাযোগ সংক্ষিপ্ত ও পেশাদার রাখুন

প্রথম ই-মেইল পাঁচ পৃষ্ঠার বিক্রয় উপস্থাপনা হওয়া উচিত নয়। একটি ভালো প্রথম বার্তায় চারটি বিষয় পরিষ্কার থাকতে হবে: আপনি কে।

আপনি কী উৎপাদন বা রপ্তানি করেন। আপনার পণ্যটি কেন ওই ব্রাজিলিয়ান প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রাসঙ্গিক হতে পারে। পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে আপনি কী চান।

উদাহরণস্বরূপ:

আমরা বাংলাদেশভিত্তিক উচ্চমানের হোম টেক্সটাইল প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য সরবরাহ করে আসছি। বর্তমানে আমরা ব্রাজিলের প্রতিষ্ঠিত আমদানিকারক ও পরিবেশকদের সঙ্গে ব্যবসায়িক সহযোগিতার সম্ভাবনা অনুসন্ধান করছি। আপনার প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে আমরা মনে করছি পারস্পরিক সহযোগিতার সুযোগ থাকতে পারে। আমরা আমাদের পণ্য ক্যাটালগ, রপ্তানি মূল্য ও নমুনা শেয়ার করতে এবং আপনার ক্রয় বিভাগের সঙ্গে একটি সংক্ষিপ্ত অনলাইন সভা করতে আগ্রহী।

এরপর পেশাদারভাবে ফলো-আপ করুন। ব্রাজিলের বাজারে প্রবেশে অনেক সময় একটি ই-মেইলে উত্তর না এসে ধারাবাহিক ও ভদ্র যোগাযোগের মাধ্যমে অগ্রগতি হয়।

১৫. যোগ্য সম্ভাব্য ক্রেতাকে বিটুবি সভায় নিয়ে যান

যখন প্রকৃত আগ্রহ তৈরি হবে, তখন ভিডিও মিটিংয়ের ব্যবস্থা করুন। আলোচনা করুন:

  • লক্ষ্য পণ্য;
  • পণ্যের স্পেসিফিকেশন;
  • সম্ভাব্য পরিমাণ;
  • বর্তমানে কোন দেশ থেকে তারা কিনছে;
  • লক্ষ্য মূল্য;
  • সার্টিফিকেশন;
  • প্যাকেজিং;
  • লেবেলিং;
  • প্রাইভেট লেবেল চাহিদা;
  • একক পরিবেশক অধিকার;
  • পেমেন্ট;
  • শিপমেন্ট;
  • আমদানি অনুমোদন;
  • বিক্রয় এলাকা;
  • বার্ষিক বিক্রয় লক্ষ্য;
  • বিপণন দায়িত্ব।

সভা শেষে আলোচিত বিষয় এবং পরবর্তী করণীয় লিখিতভাবে পাঠান। এতে আলোচনা নিয়ন্ত্রিত থাকে এবং আপনার পেশাদারিত্বের পরিচয় পাওয়া যায়।

business directory

১৬. খুব দ্রুত পুরো ব্রাজিলের একচেটিয়া অধিকার দেবেন না

ব্রাজিল একটি বিশাল দেশ। একটি ছোট সাও পাওলোভিত্তিক পরিবেশককে পুরো ব্রাজিলের একচেটিয়া অধিকার দিয়ে দিলে ভবিষ্যৎ বাজার সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। একচেটিয়া অধিকার দেওয়ার আগে মাপযোগ্য শর্ত নির্ধারণ করুন, যেমন:

  • ন্যূনতম বার্ষিক ক্রয়;
  • নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকা;
  • ন্যূনতম বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রা;
  • বিপণন বাধ্যবাধকতা;
  • রিপোর্টিং;
  • পেমেন্ট পারফরম্যান্স;
  • চুক্তির মেয়াদ;
  • চুক্তি বাতিলের শর্ত।

পুরো দেশের পরিবর্তে নির্দিষ্ট রাজ্য, গ্রাহক শ্রেণি অথবা পণ্যের জন্য একক অধিকার দেওয়া যেতে পারে। একচেটিয়া অধিকার পারফরম্যান্সের মাধ্যমে অর্জিত হওয়া উচিত, শুধুমাত্র অনুরোধ করলেই দেওয়া উচিত নয়।

১৭. পরীক্ষামূলক অর্ডার দিয়ে শুরু করুন

আপনার প্রথম লক্ষ্য সবসময় পূর্ণ কনটেইনার অর্ডার হওয়া উচিত নয়। একটি ছোট বাণিজ্যিক পরীক্ষামূলক অর্ডারের মাধ্যমে যাচাই করা যায়:

  • বাজারে পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা;
  • কাস্টমস প্রক্রিয়ার বাস্তবতা;
  • ক্রেতার নির্ভরযোগ্যতা;
  • ভোক্তার প্রতিক্রিয়া;
  • প্যাকেজিং উপযোগিতা;
  • প্রকৃত ল্যান্ডেড কস্ট;
  • ডেলিভারি কর্মদক্ষতা।

একটি সফল পরীক্ষামূলক অর্ডারের পর দুই পক্ষ বড় পরিমাণে ব্যবসা এবং আনুষ্ঠানিক পরিবেশক চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে পারে। এতে বাজার প্রবেশের ঝুঁকি অনেক কমে যায়।

১৮. ব্রাজিল সফর করুন এবং ক্রেতাদের সরাসরি সাক্ষাৎ করুন

ডিজিটাল যোগাযোগ দরজা খুলতে পারে। ব্যক্তিগত সম্পর্ক অনেক সময় ব্যবসা চূড়ান্ত করে। একাধিক যোগ্য সম্ভাব্য ক্রেতা তৈরি হলে সুপরিকল্পিত ব্রাজিল সফর করুন। সফরের আগে বৈঠক নির্ধারণ করুন:

  • আমদানিকারক;
  • পরিবেশক;
  • পাইকার;
  • খুচরা চেইন;
  • খাতভিত্তিক সংগঠন;
  • চেম্বার;
  • লজিস্টিক কোম্পানি;
  • কাস্টমস বিশেষজ্ঞ;
  • সম্ভাব্য প্রতিনিধি।

আগে ব্রাজিলে গিয়ে পরে বৈঠক খোঁজার চেষ্টা করবেন না। সফরের আগে অন্তত আট থেকে পনেরটি যোগ্য বৈঠক নির্ধারণ করা ভালো। বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো ব্রাজিল বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিবিসিসিআই), ব্রাজিলিয়ান ব্যবসায়িক সংগঠন, চেম্বার এবং পেশাদার বিটুবি ম্যাচমেকিং সেবার মাধ্যমে পরিচিতি ও বাজার যোগাযোগ সুবিধা নিতে পারে।

১৯. স্থানীয় প্রতিনিধি নিয়োগের বিষয় বিবেচনা করুন

যদি ব্রাজিল আপনার জন্য কৌশলগত বাজার হয়ে ওঠে, তাহলে স্থানীয় প্রতিনিধি বাজার সম্প্রসারণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে। একজন ব্রাজিলিয়ান প্রতিনিধি:

  • পর্তুগিজ ভাষায় যোগাযোগ করতে পারে;
  • ক্রেতাদের সঙ্গে ফলো-আপ করতে পারে;
  • সম্ভাব্য ক্রেতার অফিসে যেতে পারে;
  • পরিবেশক তৈরি করতে পারে;
  • প্রতিযোগীদের পর্যবেক্ষণ করতে পারে;
  • ট্রেড ফেয়ারে অংশ নিতে পারে;
  • বাজার তথ্য সংগ্রহ করতে পারে;
  • আলোচনায় সহায়তা করতে পারে।

তবে প্রতিনিধি বা এজেন্ট নিয়োগের আগে যথাযথ যাচাই এবং পেশাদার চুক্তি প্রয়োজন। এজেন্সি, ডিস্ট্রিবিউশন অথবা কর্মসংস্থানসংক্রান্ত চুক্তির ক্ষেত্রে ব্রাজিলিয়ান আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া উচিত।

২০. ক্রেডিট দেওয়ার আগে বাণিজ্যিক যাচাই করুন

উৎসাহ এবং আর্থিক বিশ্বাসযোগ্যতাকে এক মনে করবেন না। নতুন ব্রাজিলিয়ান ক্রেতাকে উল্লেখযোগ্য ক্রেডিট দেওয়ার আগে যাচাই করুন:

  • কোম্পানি নিবন্ধন;
  • মালিকানা;
  • ব্যবসায়িক ইতিহাস;
  • বাস্তব কার্যালয় ও কার্যক্রম;
  • বাজারে সুনাম;
  • আর্থিক সক্ষমতা;
  • আইনসঙ্গতভাবে যাচাইযোগ্য আমদানি ইতিহাস;
  • ব্যাংকিং রেফারেন্স;
  • প্রয়োজন হলে মামলা ও ঋণসংক্রান্ত তথ্য;
  • শিল্পখাতের রেফারেন্স।

প্রাথমিক লেনদেনে ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী নিরাপদ পেমেন্ট ব্যবস্থা ব্যবহার করুন। আপনার লক্ষ্য শুধু অর্ডার পাওয়া নয়। আপনার লক্ষ্য হলো সফলভাবে পণ্য সরবরাহ করা এবং মূল্য গ্রহণ করা।

ব্রাজিলের জন্য ৯০ দিনের ক্রেতা উন্নয়ন কৌশল

একজন সিরিয়াস রপ্তানিকারক প্রথম তিন মাসকে নিম্নরূপ সাজাতে পারেন।

১–১৫ দিন: বাজার গবেষণা

পণ্য নির্বাচন করুন, এনসিএম কোড নির্ধারণ করুন, কমেক্স স্ট্যাট বিশ্লেষণ করুন, প্রতিযোগী গবেষণা করুন, আমদানি বিধি পর্যালোচনা করুন এবং সম্ভাব্য ল্যান্ডেড কস্ট হিসাব করুন।

১৬–৩০ দিন: লিড তৈরি

প্রায় ১০০ থেকে ২০০ সম্ভাব্য আমদানিকারক, পরিবেশক, উৎপাদক, পাইকার এবং প্রাসঙ্গিক খুচরা বিক্রেতার একটি ডাটাবেস তৈরি করুন।

৩১–৪৫ দিন: যোগ্যতা যাচাই

প্রতিটি প্রতিষ্ঠান নিয়ে গবেষণা করুন। তাদের উপযোগিতা ও ক্রয়ক্ষমতার ভিত্তিতে অগ্রাধিকার “এ”, “বি” ও “সি” হিসেবে শ্রেণিবিন্যাস করুন।

৪৬–৬০ দিন: যোগাযোগ

অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কোম্পানির সঙ্গে ব্যক্তিগতকৃত ই-মেইল, লিংকডইন, ফোন, প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে হোয়াটসঅ্যাপ এবং রেফারেলের মাধ্যমে যোগাযোগ করুন।

৬১–৭৫ দিন: বিটুবি সভা

ভার্চুয়াল সভা করুন, স্যাম্পল পাঠান এবং কোটেশন দিন।

৭৬–৯০ দিন: আলোচনা

পরীক্ষামূলক অর্ডার, পণ্য কাস্টমাইজেশন, পেমেন্ট, ডেলিভারি, বাজার এলাকা এবং দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করুন।

রপ্তানি বাজার উন্নয়নে শৃঙ্খলা দরকার। ১০টিউচ্চমানের ব্যবসায়িক আলোচনা অনেক সময় ১০,০০০টি অনিচ্ছুক ই-মেইলের চেয়ে বেশি মূল্যবান।

বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের যেসব সাধারণ ভুল এড়ানো উচিত

কিছু ভুল বারবার রপ্তানিকারকদের ব্রাজিলে সফলতার সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়।

অযোগ্য কোম্পানিকে গণহারে ই-মেইল পাঠানো।
নির্বাচিত ও লক্ষ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে গুরুত্ব দিন।

শুধু ইংরেজিতে অনুসন্ধান করা।
পর্তুগিজ ভাষায় ব্যাপকভাবে অনুসন্ধান করুন।

শুধু কম দামের উপর প্রতিযোগিতা করা।
ব্রাজিলিয়ান ক্রেতারা গুণমান, নির্ভরযোগ্যতা, ডিজাইন, কমপ্লায়েন্স এবং ডেলিভারিও মূল্যায়ন করে।

ল্যান্ডেড কস্ট উপেক্ষা করা।
কম এফওবি মূল্য মানেই ব্রাজিলে কম বাজারমূল্য নয়।

অর্ডার আসার আগে নিয়ন্ত্রক শর্ত না দেখা।
আগেই যাচাই করুন।

শুরুতেই একচেটিয়া অধিকার দেওয়া।
পারফরম্যান্সের সঙ্গে শর্ত যুক্ত করুন।

ফলো-আপ না করা।
বাজার উন্নয়নে ধৈর্য ও ধারাবাহিকতা অপরিহার্য।

দুর্বল প্রচারণামূলক উপকরণ পাঠানো।
আপনার উপস্থাপনা থেকেই ক্রেতা আপনার উৎপাদন সক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা পায়।

প্রতিটি অনুসন্ধানকে প্রকৃত বলে ধরে নেওয়া।
বাণিজ্যিক যাচাই করুন।

ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ (টিঅ্যান্ডআইবি) কীভাবে ব্রাজিল বাজার প্রবেশে সহায়তা করতে পারে

বিদেশে নির্ভরযোগ্য আমদানিকারক ও পরিবেশক খুঁজে পাওয়ার জন্য উল্লেখযোগ্য গবেষণা, স্থানীয় যোগাযোগ এবং পেশাদার নেটওয়ার্ক প্রয়োজন। ট্রেডঅ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ (টিঅ্যান্ডআইবি) বাংলাদেশি এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের জন্য বাজার প্রবেশ ও ব্যবসা উন্নয়নসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা প্রদান করে, যার মধ্যে রয়েছে:

  • আন্তর্জাতিক ক্রেতা শনাক্তকরণ;
  • ক্রেতা-বিক্রেতা ম্যাচমেকিং;
  • আমদানিকারক ও পরিবেশক অনুসন্ধান;
  • ডিলার ও পরিবেশক নিয়োগ;
  • লিড জেনারেশন;
  • বাজার গবেষণা;
  • বিটুবি সভার আয়োজন;
  • বাণিজ্যিক যাচাই;
  • রপ্তানি প্রস্তুতি সহায়তা;
  • বাজার প্রবেশ কৌশল;
  • ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দল সহায়তা;
  • স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক প্রতিনিধিত্ব।

শুধু কোম্পানির নামের একটি তালিকা দেওয়ার পরিবর্তে একটি পেশাদার ম্যাচমেকিং প্রক্রিয়ায় এমন প্রতিষ্ঠান শনাক্ত করা উচিত যাদের ব্যবসায়িক প্রোফাইল, বিতরণ সক্ষমতা, ক্রয় চাহিদা এবং কৌশলগত আগ্রহ রপ্তানিকারকের পণ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

ব্রাজিলের বাজার লক্ষ্য করা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাংলাদেশ-ব্রাজিল প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়া অপরিচিত বাজারে প্রবেশের জটিলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে।

উপসংহার:  

ব্রাজিলে আমদানিকারক ও পরিবেশক খুঁজে পাওয়া একদিনের কাজ নয়। কোনো রপ্তানিকারক যদি গুগলে কয়েকটি কোম্পানি খুঁজে একটি সাধারণ ই-মেইল পাঠিয়ে উত্তর না পেয়ে মনে করেন যে ব্রাজিলে কোনো সুযোগ নেই, তাহলে তিনি বাজার উন্নয়নের প্রকৃত প্রক্রিয়া বুঝছেন না।

একজন পেশাদার রপ্তানিকারক ভিন্নভাবে কাজ করেন।

তিনি বাজার গবেষণা করেন।

সঠিক পণ্য শ্রেণিবিন্যাস নির্ধারণ করেন।

আমদানি শর্ত বুঝেন।

ব্রাজিলের চাহিদা বিশ্লেষণ করেন।

আদর্শ ক্রেতা নির্ধারণ করেন।

আমদানিকারক ও পরিবেশক শনাক্ত করেন।

বাজারভিত্তিকভাবে যোগাযোগ করেন।

সম্ভাব্য অংশীদার যাচাই করেন।

সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

স্যাম্পল পাঠান।

পরীক্ষামূলক অর্ডার নিয়ে আলোচনা করেন।

বাজারে যান।

সঠিক পরিবেশক নির্বাচন করেন।

প্রথম শিপমেন্টের পরও সম্পর্ক উন্নয়ন অব্যাহত রাখেন।

এভাবেই আন্তর্জাতিক বাজার গড়ে ওঠে।

বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের জন্য ব্রাজিল শুধু বিচ্ছিন্ন কয়েকটি অর্ডারের সুযোগ নয়; এটি রপ্তানি বাজার বৈচিত্র্য এবং লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক উপস্থিতি তৈরির সুযোগ।

তাই যাত্রাটি একটি সহজ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ নীতির মাধ্যমে শুরু হওয়া উচিত: শুধু একজন ক্রেতা খুঁজবেন না। ব্রাজিলের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ বাজার প্রবেশ ব্যবস্থা গড়ে তুলুন। যখন বাজার গোয়েন্দা তথ্য, পেশাদার ক্রেতা শনাক্তকরণ, নিয়ন্ত্রক প্রস্তুতি, বাণিজ্যিক যাচাই, বিটুবি ম্যাচমেকিং এবং ধারাবাহিক সম্পর্ক উন্নয়ন একসঙ্গে কাজ করে, তখন ব্রাজিলের বাজারে সফল প্রবেশের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Sign In

Register

Reset Password

Please enter your username or email address, you will receive a link to create a new password via email.